Sunday, January 10, 2016

হৃদয় যন্ত্রের সমস্যা

(৮)
 হৃদয় প্রসঙ্গে ডাক্তাররা যা  বলে
 আমরা যা বুঝি
 আমি জানতে চাই প্রতিটা বিহঙ্গ রহস্য

   মন বনাম হৃদয়
   তালিবানি কাবুল থেকে বিলাসী ভেগাস
   হোরাস অসিরিসের অখন্ড অনন্ত দ্বৈরথ
 
   নৈবদ্য বা ত্যাগ  
    যে নামেই ডাকো না কেন
     সবকিছুই অস্পষ্ট --
     দিল্লীর কুয়াশাঘন ধূসর শীতের সকাল

  চকিত গহন নিশি, দূর দূর দিশি ।

 

   
 

Saturday, January 9, 2016

বরফ ঢাকা সকাল

(৬)
 আবার যখন পৃথিবীতে পা রাখলাম
  মাটি, রাস্তা,বাসি ঘাস
  জীয়ন জোসিয়ার হলদে সবুজ গালিচায়
 
 ওই ভালোবাসার প্রশ্নটাই উঠল প্রথমে
  তুষার ক্লীষ্ট সাদা গ্রানাইট সকালে
  বরফ ঢাকা গাড়ীর কাঁচ
  হাঁটুভর্ত্তি তুষারপাতে
  সময় মাপে দূরত্বের নাকছাবি

    মিনিট কুড়ির অফিসের পথ
    আজ দুঘন্টার-মর্নিং কমিউট
    পিছিল বরফগলা রাস্তায়
    হামাগুড়ি, শামুকের পিছুটান
    রেডিওতে  ভরা বলিউডি গান

    দুই হরিণের সাথে পথে দেখা
    ওরা উড়ন্ত গাড়ীর সামনে আসে না কোনদিন
     আজ এলো,হাঁসল, কথা হলো-চলে গেল

       কৃষ্ণগহ্ববরে আটকানো সময়...

        যশোদানন্দন- তুমি চুরি করো নি মাখন ?
 
 
 
   

Friday, January 8, 2016

তুমি আমার মতন

(৫)
 তুমি আমার ঠিক আমার মতন।
  মরনে। জনমে। বিহনে।
  তবে আজ না
  অন্যকোন দিনে ...

   তুল্যমুল্যের ঠেকা নেই
   শুধু জুঁইফুলের রোদ্দুরে
   কখনো বলেছিলাম
   " ওগো শুনছো?"
    জানি তোমার কন্ঠ নিকম্পন
    হৃদয়ে নেই রিখটার স্কেল
    ভূতের রেডিওতে শুধুই
     আমার কন্ঠনালীস্বর !
  

Thursday, December 31, 2015

বর্ষ শেষের কবিতা

(১)
 গাওয়া ঘি এর মতন ভুলে থাকা?
  উঁহু তার থেকেও গহন ঘন!

  ফিরে ডাকার হিস হিস, ফিসফাস ?
 উঁহু তার থেকেও  ফিনফিনে পাতলা!

  অসংখ্য জোড়া জোড়া ভাঙা ঢেউ ?
  তার থেকেও অগুন্তি! অসংখ্য!!

  পতনের থেকেও দ্রুত !!
   
(২)
  হারজিৎ নয়
  তবুও
  বিজয় উল্লাসের ওয়াইন
  আর
  পরাজিত সৈনিকের বর্শাবিদ্ধ হৃদয়ের রক্ত
  সবকিছুর রঙই যখন লাল
  ঘন লাল
 
  মরা বাঁচার ক্ষুদ্র লক্ষণরেখার
  উনিশক্রোড় বাইরে
 মৃত্যুর  গোলমরিচ মরীচিকা
  এবং
   বেঁচে থাকার রোগ
   যেখানে অসূর্য্যস্পর্ষা

  শুরু আর শেষের ছোট গল্প নয়
  টলস্টয়ের অসমাপ্ত উপন্যাস।

  ক্ষমার চেয়েও  ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিযায়ী পাখীরা যখন ঘরে ফেরে
  হিমশীতল তুন্দ্রার গহণ শীতল অন্ধকারে।

 (৩)
  কোথাও না কোথাও থাকবেই
  সেই না দেখা মুখ,
   না শোনা কন্ঠস্বর ।

   কোথাও না কোথাও
   কাছে বা দূরে
   স্থলে বা জলে
   আলো বা আঁধারিতে
   পূর্নিমা বা অমবশ্যায়
    নক্ষত্র ঝড়া ছায়াপথে কোথাও না কোথাও

     জমিদার বাড়ির শতাব্দি প্রাচীন ভাঙা প্রাচীর
     দুদিকে ঝোপ জঙ্গল, মশা পোকা মাকড়
     আমি জানি, তুমি আছ আশেপাশেই
     তবুও মশার ভয়, সাপের ভয়
     না জানি কখন সন্ধ্যা হয়!!
 
     
   
   

 
 
   

Saturday, December 28, 2013

জীবিকার বাইরে জীবনের খেলাঘরে আজ একমনি তালা

সেদিন কোন এক নবীনাই
   এই ফোরামে প্রশ্নটা তুললো-
   জীবিকা আর প্রেমের বাইরে এক বিরাট জীবন ---
    ইন  ফাক্ট,  ওই বৃত্তের বাইরেই আসল বৃহত্তর বৃত্তালয়।
   আমি নিরুত্তর।

    আমার বয়স যখন ঐ মেয়েটার কাছাকাছি- একুশ, বাইশ ছোঁয়া ছোঁয়া-
    চেকভ, টলস্টয়, গোর্কির মধ্যে প্রতিদিন নিজেকে আবিস্কার করতাম।
     নৌকায় মাল নামানো থেকে হৃদয়ের ব্যথাগুলি যখন অন্যর হাত ধরে চলে যায়
    তার অম্বল ঢেকুরের দুর্গন্ধ এবং বিস্বাদ-
      জীবনের সব মাইক্রোব, জীবানু তখন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখি।
   মনে হত জীবিকার জন্য পড়াশোনা
 আর প্রেমিকার জন্য টিকিট কাউন্টারের দাঁড়িয়ে লম্বা লাইনে প্রতীক্ষা-
    সব মায়া।
    চেনা লক্ষনরেখার বাইরে তখন আরো বড় বৃহত্তর উপলদ্ধির মরিচ গর্জন।
     ঘাসের ওপর  শিশির বিন্দু থেকে ফোঁটা ফোঁটা চুঁইয়ে পড়া খেজুর রসে
      ঘুমিয়ে আছে আরো অনেক বড়  অজানা, অচেনা পৃথিবী--
     
        তারপর একদিন
        কর্পরেটের চোরাবালি টেনে নেয়
        প্রথমে পা, মাথা
         পরে অনুভূতি,  উপলদ্ধি,
         আরো পরে সেই সব ছোট ছোট অনুভূতিগুলো--
        পৃথিবী ক্রমশ ছোট হতে থাকে
        কর্পরেট লুক, আউটলুক এবং প্রত্যন্তে কর্পরেট এফেয়ার
         জীবিকার বাইরে জীবনের খেলাঘরে আজ একমনি তালা
          হারানো চাবিটার দেখা পাই না আজকাল !

        ( এটা কোন কবিতা না। আমিও কোন কবি না। নেহাতই আমার একমুঠো অনুভূতি। যে ভাষায়, যে ভাবে লিখতে ভাল লাগে, সেই ভাবেই লিখলাম )
     

Wednesday, March 24, 2010

আজি হতে শত বর্ষ পড়ে

দৃশ্য-১

টাইটানের বুকে পৃথিবীর লোকেদের কলোনি। টাইটানের আকাশে ৪৭ টা চাঁদ এবং মায়াবী শনি গ্রহ।
কাঁচের স্পেয়ারের মধ্যে বসে, সেই অবাক করা আকাশের দিকে তাকিয়ে বঙ্গ কন্যা দীপা-আসল নাম 156-TREW-2134-3456

সেখানে সেই কৃষ্টাল বলের দিকে তাকিয়ে সে দেখতে পায় অতীতের লোকদের। তাদের ভার্চুয়াল ইমেজরা কথা বলে দীপার সাথে। দীপার সব থেকে ভাল লাগে একজন পূর্ব পুরুষের সাথে কথা বলতে। যিনি ১৯৭২ সালে বাংলা থেকে আমেরিকাতে এসেছিলেন। অন্য রকম লোক। অতীত ভবিষ্যত সব নিয়েই ভাবতেন।
তার সাথে কথোপকপোন শুরু ১৯৭০ সালের বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে

--
-হিংসা কেন ছিল সেযুগে? কেন বাঙালীদের মধ্যে রবীন্দ্র নাথ জন্মালো অথচ ফোর্ড বিল গেটস বা নিদেন পক্ষে একজন নারায়ন মূর্তীও জন্মালো না।

দৃশ্য দুইঃ
১৯৭০ এর নক্সল উত্তাল কোলকাতা-সেই দাদু তখন ২৫ এর যুবক। উত্তর বঙ্গে পুলিশের তারা খেয়ে নদীর ধার দিয়ে হাঁটছে-আর ফ্ল্যাশবাকে শুধুই দেখছে তার হাতে কিভাবে পুলিশ, নিরীহ মানুষ খুন হয়েছে-রক্ত আর পুলিশের তাড়া খেতে খেতে সে তিস্তা সাত সমুদ্র পার করে চলে আসে আমেরিকাতে [ এটা আসলেই খুব বড় দৃশ্য হবে]--ফ্ল্যাশে আরো থাকবে উত্তাল প্রেসিডেন্সি-পরীক্ষা বন্ধ, কারখানা বন্ধ, অফিস পোড়ানো-খাদ্য আন্দোলনে গুলি। কোলকাতার নক্সাল দশকের সব উল্লেখ যোগ্য ঘটনা ফ্ল্যাশব্যাকে দেখানো হবে ( কোরিওগ্রাফি)।

দৃশ্য তিনঃ
নিউইয়ার্কের বস্তি। সেখানে দিনে ছাত্র-রাতে ট্যাক্সি ড্রাইভার। কালোদের সাথে পিস্তল হাতে নিয়ে বেয়ার সারভাইভাল ( কোরিও গ্রাফি)। একটা রুমে ৫ জনের সাথে শোয়া, এমন সময় টেলিগ্রাম বাবা অসুস্থ। কিন্ত ফেরার উপায় নেই। টাকা আইন ইচ্ছা কিছুই নেই-( কোরিও)

দৃশ্য চারঃ
নিউয়ার্কের ১০০ তলায় স্ট্যানলি মর্গানের ভাইস প্রেসিডেন্ট সে। হাতে ২০০০ মিলিয়ান ডলারের পোর্ট ফলিও।
জেট সেট জীবন-কোলকাতার দারিদ্র্য তখন অতীত-আদর্শবাদ ওঅতীত। দেখা যাবে সে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে লোটার সব প্ল্যানের মিটিং এ শুধু ক্যারিয়ারের কথা ভেবে, বিবেক বিসর্জন দিয়ে বসের কথায় সয় দিয়ে যাচ্ছে। তাতে দেশটা ডুবল না বাঁচল সেটা না ভেবে-সে শুধুই তার লেটেস্ট ইয়াটের কথায় ভেবে চলেছে।

দৃশ্য ৫ ঃ ১৯৯১। আমেরিকার ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিস। শেষ দুবছর চাকরি নেই। বাড়ি গাড়ি দেনার দায়ে বিক্রি হয়ে গেছে। ছেলে মেয়েরা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। সে ভাবছে আমেরিকাতে অর্জন বর্জনটা জীবনে আসলে কি হল? সে এক সময় ভিপি ছিল-সেটা বেশী বাস্তব, না তার বেকারত্ব আরো বেশী বাস্তব? এই সব ভাবতে ভাবতে দেখা হবে এক সন্নাসীর সাথে-আস্তে আস্তে সে সন্ন্যাসী অনাথ আশ্রমে যোগ দেবে ভারতে, আমেরিকাতে। জীবনের শেষ দিনগুলো কাটাবে একদম সাধারন ভাবে, গরীব ছেলেমেয়েদের মধ্যে।

দৃশ্য ৬ঃ আবার টাইটানে ফিরে আসা-এবার দীপা দাদুকে প্রশ্ন করবে-

এই ১২০০০ মাইল পেড়িয়ে কি পেলে জীবনে?
নক্সাল আন্দোলন করেও কি কিছু পেয়েছিলে?
বা যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে মিলিয়ান ডলার বোনাস পেতে তখনই বা কিছু পেয়েছে?
কি খুঁজলে সারা জীবন আর কি পেলে?

Friday, January 8, 2010

পথিক সুমন

পথিক সুমন

সুমন
তোমাকে সেলাম

একদিন সব কিছু মুছে যাবে লাল নক্ষত্রতলে
অথবা পৃথিবীর তলপেটে জ্বলতে থাকা লাভাশ্রোতের লাল নির্গমনে

তবুও বেঁচে থাকার গোষ্ঠীবাঁধা গথে
রাষ্ট্রীয় তোতাকাহিনী শোনাচ্ছে যারা
আর এক সবার ওপর পার্টি সত্য মৌচাক
এবং তার ভনভনে মৌমাছির দল

এদের মৌতাত ভেঙে, মৌচাকে ঢিল মেরে
তুমি জানালে
পার্টি, আদর্শ, গোষ্ঠি এসবের ওপরে হচ্ছে মানুষ
যে শহুরে গনতন্ত্র ওদের পাশে দাঁড়ায় না
অথবা যেসব বাবুরা ওদের দেখলে লজ্জা পায়
অথবা মেহনতী মানুষের সেবায় নিয়োজিত পঞ্চায়েত ভাগারে রক্তসন্ধানী শকুনের দল
এরা সবাই বাধ্য করেছে।
এরা ।
যারা এসিরুমে বসে লিখছে "ওরা কারা"। ওরা কারা?
মাল্টিন্যাশানালে ডলারে মাইনে পাওয়া শহুরে বিপ্লবীরদল
ঠিকাদারির গাছে গেঁজানো খেজুর রসের বিপ্লবী হাঁড়ি

ওরা
লাশকাটা ঘরে শুয়ে থাকা ফোর্থ ইন্টারন্যাশানালের ফ্যাশন ডিজাইনার
শশ্বানবঙ্গের শবসাধকদের মিছিলে সামিল হওয়া বাঙালী ভিখিরী।

এদের সবাইকে তুমি দেখিয়েছ মানুষ সিপিএম কংগ্রেস হতে পারে না
সে পথিক। পার্টি না, স্বার্থ না, আদর্শ না, নাম ডাক না।

গোত্রহীনের দল, পথের দাবীর সব্যসাচীর মতন কান পেতে শোন
তোর প্রথম এবং শেষ ঠিকানা আদি দিগন্তহীন পথ।